Home National অবহেলার অভিযোগে তিতাসের ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

অবহেলার অভিযোগে তিতাসের ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

5
0

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তল্লা এলাকায় বাইতুল সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী মো. আল মামুন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গেল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মসজিদটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পরদিনই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন তিতাসের এমডি আলী মো. আল মামুন। এসময় স্থানীয় মুসল্লিরা অভিযোগ করেন, তিতাসের গাফিলতির কারণেই মসজিদে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে।

ওইদিন ঘটনাস্থলেই স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তিতাসের কোনও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুসল্লিদের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনে গতকাল রবিবার সকালে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মসজিদ কমিটি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ভবন নিমার্ণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কারণে এ আগুনের সূত্রপাত ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বলছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও পাইপলাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশন পৃথক ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সবগুলো তদন্ত কমিটিই তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে গেল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর দগ্ধ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

এরমধ্যে সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন- সাব্বির (২২), দেলোয়ার হোসেন (৪৫), জুয়েল (৭), জামাল (৪০), রাসেল (৩০), জুবায়ের (১৪), রিফাত (১৮), হুমায়ুন কবির (৪৩), কাঞ্চন (৩৭), নয়ন (২৭), হুমায়ুন কবির (৭০), মোস্তফা কামাল (৩৫), ইব্রাহিম (৪৩), রিফাত (১৮), জুনায়েদ (১৭), কুদ্দুস বেপারি (৭২), রাসেল (৩৪), বাহাউদ্দিন (৬২), মালেক (৬০), মিজান (৪০), নাদিম আহমেদ (৪০), শামীম হাসান (৪৫), জুলহাস, মো. আলী মাস্টার (৫৫), আবুল বাসার মোল্লা (৫১), মনির ফরাজী (৩০) ও ইমরান (৩০)।

বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের প্রত্যেকের অবস্থাই সংকটাপন্ন। তারা সবাই মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। প্রত্যেকেরই শ্বাসনালী, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here