Home More জোয়ারের তোড়ে অর্ধশতাধিক সেতু ও কালভার্ট বিধ্বস্ত, স্থবির যোগাযোগ!

জোয়ারের তোড়ে অর্ধশতাধিক সেতু ও কালভার্ট বিধ্বস্ত, স্থবির যোগাযোগ!

8
0

মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জোয়ারের তোড়ে অর্ধশতাধিক সেতু ও কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে বেশ কয়েকটি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এছাড়াও পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৪ কিলোমিটার পাকা ও ১০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। এতে ওইসব সড়কে যানবাহন চলাচল দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলায় সড়ক-সেতু এবং কালভার্ট ধসে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে গত ১৮ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে যায়। এতে প্রতিদিন দুইবার কমলনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।

জোয়ার ও ভাটার পানির তোড়ে কমলনগর উপজেলার চারটি সেতু ও ১০টি কালভার্ট এবং রামগতি উপজেলার ছয়টি সেতু, ১৫টি কাঠের পুল ও ২০টি কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ধসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়াসহ পানির স্রোতে কমলনগর উপজেলার ২৪ কিলোমিটার পাকা ও ৪০ কিলোমিটার কাঁচা এবং রামগতি উপজেলার ২০ কিলোমিটার পাকা ও ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান উল্যাহ হিরন জানান, জোয়ারের স্রোতে তার ইউনিয়নের নবীগঞ্জ-লরেন্স সড়কের একটি, হাজি রোডের একটি এবং নুরিয়া রোডের একটি সেতু বিধ্বস্ত হয়েছে।

একই উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল খায়ের জানান, পানির স্রোতে তার ইউনিয়নের চরজগবন্ধু-ফলকন সীমান্ত সড়ক ও মেন্টু সড়কের দুটি কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার ছায়েফ উল্যাহ জানান, পানির স্রোতে তার ইউনিয়নের অন্তত ২০ কিলোমিটার কাঁচা এবং পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রামগতি উপজেলার চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী বলেন, সেতু, কালভার্ট ও কাঁচা-পাকা সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

একই উপজেলার চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নে ১০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ভেঙে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

কমলনগর ও রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জোয়ারে কমলনগর উপজেলার ১০টি পাকা সড়কের ২৪ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পাঁচ কোটি টাকা এবং চারটি সেতু বিধ্বস্ত হয়ে এক কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে, রামগতি উপজেলায় ছয়টি পাকা সড়কের ২০ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুই কোটি এবং ছয়টি সেতু ধসে এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও কমলনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন জানান, কমলনগর উপজেলার ৪০ এবং রামগতি উপজেলার ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট জরুরি মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করার কাজ চলছে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সংশ্নিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু-কালভার্ট ও সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করতে কাজ চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here