Home Lead News বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেতে আ. লীগ নেত্রীর ‘ভুয়া কাগজ’

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেতে আ. লীগ নেত্রীর ‘ভুয়া কাগজ’

7
0

আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীর দাবি ১৯৭১ সালে আসমা বিবির বয়স ৩ বছর। জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়স ৮ বছর ৩ মাস। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজেকে ২০ বছরের তরুণী দাবি করে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার আবেদন করেছেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মহিলা সংস্থা জয়পুরহাট জেলা শাখার চেয়ারম্যান। এ জন্য জাল করা হয়েছে একাধিক সনদ। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা এবং মহিলা আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এর প্রেক্ষিতে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম আলী জেলা প্রশাসকের কাছে গত ৫ সেপ্টেম্বর সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে আবেদন করেন।

বর্তমান সরকারের সময় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে নিজেকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করার জন্য আছমা বিবি ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য আছমা বিবি স্থানীয় দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাবার পরিবর্তে স্বামীর নাম দিয়ে জন্মতারিখ ১৯৫০ সালের ২০ ডিসেম্বর উল্লেখ করে জন্মনিবন্ধনও করে নিয়েছেন। তবে জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়স সংশোধনের আবেদন করলেও তথ্যে গরমিল থাকায় নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে দেয়। তার জন্ম তারিখ ১৯৬২ সালের ২০ ডিসেম্বর (জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ৫৫৩৬৪২১২৯৯)। এছাড়াও কোন দিন স্কুলে না গিয়ে ১৯৬৩ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন মর্মে স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসা থেকে প্রত্যয়নপত্র ‍ও সংগ্রহ করেন।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জামুকা’র সহকারী পরিচালক আব্দুল খালেক চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বিশেষ কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাইয়ের জন্য জয়পুরহাট সদরের উপজেলা নির্বাহী বরাবরে চিঠি ইস্যু করেন। চিঠির প্রেক্ষিতে সদর উপজেলায় কর্মরত ৫ সদস্যের সরকারি নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহনাজ সিগমা তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে গত ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে তিনি আছমা বিবিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত করার জন্য সুপারিশ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্ম বের হতে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় সরকারি জায়গা দখল, গাছ কাটাসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু জানান, তার সাথে অনেক কথা হয়েছে সে যে বীরঙ্গনা সেটি কোন দিনই বলেনি। সে সরকারের সাথে এবং দলের সাথে প্রতারণা করতে চাচ্ছে। তার বিচার হওয়ার দরকার এবং এর সাথে আরো যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা দরকার।

জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন,‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘

এত কিছুর পরও আছমা বিবি নিজেকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন,‘ওইসময় জাতীয় পরিচয়পত্রে আমার জন্মতারিখ ভুল করে লিখা হয়েছে। তাই আমি সংশোধন করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমি একজন প্রকৃত বীরাঙ্গনা হিসেবে যাবতীয় কাগজপত্র সহ গেজেটভূক্তির জন্য আবেদন করেছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here