Home More প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

4
0

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উত্তর জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ায় ১৯৯৪ সালে স্থাপন করা হয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১২ সালে উত্তর জুলধা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারি করণ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন দেখলে মনে হয় একটি জরাজীর্ন ভবন। বিদ্যালয়ে নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই শিক্ষার ব্যবস্থা। ছাত্র-ছাত্রী শূন্য হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়টি গত একবছর যাবত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের এমন অবস্থার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে দায়ী করছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, দাতা, স্থানীয় বাসিন্দারা, শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরা। একই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

জানা গেছে, বিগত ২৩ বছর যাবত উত্তর জুলধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে আছেন সোহেলা পারভীন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, দাতা, স্থানীয় বাসিন্দাসহ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসার, অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর উপজেলা উপ-সহকারী শিক্ষা অফিসার দীজেন ধরকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ পর্যন্ত দু’দফায় অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করেন।

অভিযোগ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেহাল দশায় বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। আট বছর হলেও সরকারিকরণের বিদ্যালয়টিতে নেই কোন পানীয় জলের নলকূপ, নেই কোন পয়ঃনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা, মাঠের অবস্থা খেলাধুলার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। আশেপাশে হয়নি কোন প্রকার বৃক্ষরোপণ, সরকারি বিভিন্ন দিবস পালন হয় না। এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বর্ষ উদযাপন, ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবস পালনে কোন ব্যবস্থা পর্যন্ত করেননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

এলাকাবাসীরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সরকার থেকে নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন সংগ্রহ করলেও হয়নি তার ছিটেফোঁটা কাজ। তাই অনুন্যাপায় হয়ে পার্শ্ববতী মাদরাসায় হচ্ছে শিক্ষাদান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে শিক্ষার মান আজ তলানিতে। তাই যথাযথভাবে তদন্ত করে বিদ্যালয়টির মান উন্নয়নে ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়টিতে ভাল মানের শিক্ষক নিয়োগসহ একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনপূর্বক বিদ্যালয়টির হারানো মান ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করেন।

সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল আহমেদ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে প্রায় ১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তিনি অভিযোগের বিপরীতে প্রধান শিক্ষিকাকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রমাণ সরবরাহের নির্দেশনা দেন।

জানা যায়, সরকারি বরাদ্দ ও বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের প্রায় লাখ খানিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আসে প্রধান শিক্ষিকা সোহেলা পারভীনের বিরুদ্ধে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান সভাপতি কার্যকর কোনও ব্যবস্থা না নিলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য উপজেলা প্রশাসন এবং কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিস উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা প্রশাসন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্তের প্রতিবেদন পাঠায়। পরে আঞ্চলিক উপ-পরিচালক অভিযোগটি তদন্ত করতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে উপ-পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, দুই-একদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে উত্তর জুলধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোহেলা পারভীনের কাছে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here