Home Lead News খিচুড়ির জন্য বিদেশ সফর: বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের দুষলেন প্রতিমন্ত্রী

খিচুড়ির জন্য বিদেশ সফর: বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের দুষলেন প্রতিমন্ত্রী

4
0

শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য সম্মতভাবে পরিবেশিত খাবারের ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম-খিচুড়ি, সবজিসহ অন্যান্য খাবার রান্না ও প্রসেসিং শিখতে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিদেশ সফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনা শুরু হয়।

এজন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের দুষলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতায় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ঢুকে পড়েছে, তারাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অহেতুক সংবাদ পরিবেশন করে হইচই ফেলে দিচ্ছে ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

বুধবার (সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলনে রান্না করা খাবার হিসেবে বাচ্চাদের খিচুড়ি দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব নিয়ে গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

জাকির হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে মিড-ডে মিল প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। এটি এখন বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বর্তমানে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। এ সময় খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সাংবাদিকতা পেশায় এসেছে। তাদের কোনো জ্ঞান-গরিমা নেই। হুট করে একটা লিখে দিলেই মনে হয় হয়ে গেল। সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় গেল না গেল তা তারা দেখে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার এলাকায়ও দেখেছি বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ছেলেরা এখন সাংবাদিকতা করে। তারাই ভ্রান্ত রিপোর্ট করে। এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের একটু নজর রাখা উচিত, সরকারের যেন বদনাম না হয়। সরকারের ভাবমূর্তি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে সেদিকে নজর রেখে সংবাদ পরিবেশন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন। বিএনপি আমাদের সম্পর্কে নানান ধরনের কথা বলে মানুষকে নানাভাবে উসকে দিচ্ছে। এটা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।

স্কুলের বাচ্চাদের জন্য রান্না করা খাবার (খিচুড়ি) ব্যবস্থাপনা দেখতে বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব নিয়ে হইচই করার মতো অবস্থা নেই বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৪১ সালে কেরালায় স্কুলে মিড-ডে মিল চালু হয়েছে। আমি সেখানে দেখে এসে পাইলটিং করেছি। আমি যদি উকিল হই আমি কি সিনিয়রের কাছে শিখব না? মিড-ডে মিলের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ডিপিপিতে সামান্য কিছু টাকা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা এ কর্ম পরিচালনা করবে, যেখানে দীর্ঘদিন থেকে এটা মিড-ডে মিল দেয়া হচ্ছে সেখানে কিছু শিক্ষা দেয়ার জন্য। এটা কোনো খিচুড়ি পাক শিক্ষা নয়। এটা ম্যানেজমেন্টটা জানার জন্য, শেখার জন্য, কীভাবে করছে। এজন্য সামান্য কিছু টাকা ডিপিপিতে ধরা আছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোনো বিষয়েই অভিজ্ঞতা নিতে হয়। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করলে তার ফলও ভালো পাওয়া যায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার দেয়ার উদ্যোগটি ভালো করে করা হচ্ছে। মিড-ডে মিল আমরা ১৬টি উপজেলায় পাইলটিং (পরীক্ষামূলকভাবে চালু) করেছি প্রোগ্রামটা। আমরা বাচ্চাদের খিচুড়ি খাওয়াব। তিনদিন বিস্কুট, তিনদিন রান্না করা খাবার খাওয়াব। ডিম, কলা ইত্যাদি নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি; যাতে আমরা বাচ্চাদের কিছুটা হলেও পুষ্টি দিতে পারি। সুন্দর স্বাস্থ্যবান শিশু না হলে পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here