Home National ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা: দায় স্বীকার রবিউলের

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা: দায় স্বীকার রবিউলের

2
0

দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএন ওয়াহিদা খানমকে বাসায় ঢুকে হত্যা চেষ্টা মামলায় দুই দফা রিমান্ড শেষে মামলার অন্যতম আসামি ইউএনও’র বাড়ির সাময়িক বরখাস্ত মালি রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কড়া নিরাপত্তা মধ্যে রবিউলকে দিনাজপুর আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় চিফ জুডিশিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিট বিচারক ইসমাইল হোসেনের আদালতে রবিউলকে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে আদালতের কাছে হামলার দায় স্বীকার করেন।

দিনাজপুর কোর্ট পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আদালতে প্রায় ৩ ঘণ্টা বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন রবিউল। জবানবন্দির পর রবিউলকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানিয়েছিলেন, এ ঘটনার একমাত্র পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারী তিনি নিজেই। আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তিনি। তার দেয়া তথ্যমতে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লাঠি, মই, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার পরনের প্যান্ট, হাতের ছাপসহ মোবাইলের লোকেশন- বিষয়গুলো আলামত হিসেবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এসব আলামত বিচারকার্যে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন ও প্রযুক্তির সহায়তার রবিউল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন।

এই মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর  গোয়েন্দা  পুলিশ-ডিবির ওসি ইমাম আবু জাফরও রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
এদিকে আদালতে উপস্থিত রবিউল ইসলামের ভাইয়েরা অভিযোগ করেন, পুলিশ রবিউলকে দু’পাশে ধরে উঁচু করে আদালতে প্রবেশ করেছেন। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয়ার জন্য অমানুষিক নির্যাতন ও মারধর করায় রবিউল হাঁটতে পাছেন না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এর আগে গেল বৃহস্পতিবার আসামি রবিউল ইসলামকে পুলিশ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিতে বললে রবিউল অসম্মতি জানায়। পরে ৬ ঘণ্টা পর পুলিশ ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় সিনিয়র জুডিশিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিট আদালতের বিচারক আনজুমান আরার আদালতে রবিউলকে হাজির করে আরও ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে অদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসায় ঢুকে এবং ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনওর রুমে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত শুরু করে। একসময় ইউএনও’র চিৎকার শুনে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা পাশের রুম থেকে ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই প্রথমে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরদিন সকালে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদাকে ঢাকায় এনে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এরমধ্যে সবশেষ গেল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইউএনও ওয়াহিদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে। তিনি ডান হাত পুরোটা নাড়াতে পারছেন। এমনকি ডান পাও কিছুটা নাড়াতে পারছেন।

এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওয়াহিদা খানমের মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখকেও গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাবা-মেয়ে এখন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here